বাংলা কবিতা
আচার ভ্রংশ
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
কালগুণে এই দেশে বিপরীত সব।
দেখে শুনে মুখে আর, নাহি সরে রব
এক দিকে দ্বিজ তুষ্ট, গোল্লাভোগ দিয়া।
আর দিকে মোল্লা বোসে, মুর্গি মাস নিয়া॥
একদিকে কোশাকুলী, আয়োজন নানা।
আর দিকে টেবিলে, ডেবিলে খায় থানা॥
ভূতের সংসারে এই, হোয়েছে অদৃভূত।
বুড়া পূজে ভূতনাথ, ছোঁড়া পূজে ভূত!
পিতা দেয় গলে সূত্র, পুত ফ্যালে কেটে।
বাপ পূজে ভগবত, ব্যাটা দেয় পেটে!
বৃদ্ধ ধরে পশু-ভাব, জশু-ভাব শিশু।
বুড়া বলে রাধাকৃষ্ণ, ছোঁড়া বলে ঈশু॥
হাসি পায় কানা আসে, কব আর কাকে?
যায় যায় হিঁদুয়ানী, আর নাহি থাকে॥
ওহে কাল কালরূপ, করালবদন।
তোমার রদনযুক্ত, মরালবাহন॥
দেব দেবী কত তুমি, করিয়া সংহার।
ভারতের স্বাধীনতা, করিলে আহার॥
কিছু বুঝি নাহি পাও, চারি দিক চেয়ে।
এখন ভরাবে পেট হিন্দুধর্ম খেয়ে?
দোহাই দোহাই কাল, শান্তিগুণ ধর।
উঠ উঠ পান লও, আঁচমন কর॥
KHOKON