KHOKON

_

Bangla Kobita

Poet

বাংলা কবিতার ইতিহাস হাজার বছরেরও বেশি পুরনো। এটি প্রাচীন চর্যাপদ থেকে শুরু করে আজকের অত্যাধুনিক বিমূর্ত কবিতা পর্যন্ত এক দীর্ঘ ও বৈচিত্র্যময় পথ অতিক্রম করেছে। সহজে বোঝার জন্য বাংলা কবিতার ইতিহাসকে প্রধানত তিনটি যুগে ভাগ করা যায়: ১. আদি যুগ (৯৫০ – ১২০০ খ্রিস্টাব্দ) বাংলা সাহিত্যের যাত্রা শুরু হয় বৌদ্ধ সহজিয়া সিদ্ধাচার্যদের হাত ধরে। চর্যাপদ: এটিই বাংলা কবিতার প্রাচীনতম নিদর্শন। এগুলো মূলত গান ছিল, যা রূপক ও সংকেতের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক সাধনার কথা বলত। প্রধান বৈশিষ্ট্য: রহস্যময় ভাষা (সন্ধ্যা ভাষা) এবং বৌদ্ধ দর্শন। ২. মধ্যযুগ (১২০১ – ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ) এই দীর্ঘ সময়ে বাংলা কবিতা মূলত ধর্ম ও দেব-দেবী কেন্দ্রিক ছিল। বৈষ্ণব পদাবলী: রাধা-কৃষ্ণের প্রেমের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক আকুতি প্রকাশ। (বিদ্যাপতি ও চণ্ডীদাস প্রধান কবি)। মঙ্গলকাব্য: চণ্ডীমঙ্গল, মনসামঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল—যেখানে লৌকিক দেব-দেবীর মহিমা গাওয়া হতো। অনুবাদ সাহিত্য: রামায়ণ, মহাভারত ও ভাগবতের অনুবাদ। আরাকান রাজসভা: প্রথমবারের মতো রোমান্টিক প্রণয় উপাখ্যান (যেমন: লোর-চন্দ্রাণী, পদ্মাবতী) জনপ্রিয় হয়। শাক্ত পদাবলী: দেবী দুর্গা বা কালীর আরাধনা। ৩. আধুনিক যুগ (১৮০১ – বর্তমান) ব্রিটিশ শাসনের প্রভাবে বাংলা কবিতায় ব্যক্তিমানুষের আবেগ, দেশপ্রেম এবং যুক্তিবাদ জায়গা করে নেয়। উন্মেষকাল (১৯শ শতাব্দী): মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম সনেট ও অমিত্রাক্ষর ছন্দ প্রবর্তন করে বাংলা কবিতায় বিপ্লব ঘটান। এরপর বিহারীলাল চক্রবর্তীর হাত ধরে গীতি কবিতার সূচনা হয়। রবীন্দ্র যুগ: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা কবিতাকে বিশ্বদরবারে নিয়ে যান। উপনিষদীয় দর্শন, প্রকৃতি ও প্রেমের গভীর মেলবন্ধন তাঁর কবিতার প্রাণ। কল্লোল যুগ ও আধুনিকতা: রবীন্দ্রনাথের বলয় থেকে বেরিয়ে এসে বুদ্ধদেব বসু, জীবনানন্দ দাশ ও বিষ্ণু দে-র মতো কবিরা মানুষের নিঃসঙ্গতা, নগরজীবন ও আধুনিক বাস্তবতাকে তুলে ধরেন। বিদ্রোহ ও জাগরণ: কাজী নজরুল ইসলাম কবিতায় সাম্যবাদ, বিদ্রোহ এবং যুদ্ধের সুর নিয়ে আসেন। পঞ্চাশ ও ষাটের দশক: এই সময়ে কবিতার ভাষা আরও তীক্ষ্ণ ও রাজনৈতিক হয়ে ওঠে। শামসুর রাহমান, আল মাহমুদ ও শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের মতো কবিরা নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেন

আরও পড়ুন