বাংলা কবিতা
অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না
আল মাহমুদ
আমরা এখন আমাদের চুল্লীর চারপাশে
গোল হয়ে বসে পড়েছি। মশলার উষ্ণ স্বাদু গন্ধে
আমরা রূপকথার ঘোড়সোয়ারদের মতই টগবগ করছি।
কে যেন আমাদের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছেন
রহস্যময় হাসির বিদ্যুৎ। আর চুড়ির শব্দ
ষেন অন্ধকার গেলাফের ওপর রুপোর কারুকাজ।
আমরা একটু পরেই খেতে পাবো।
মাংসের প্রতিটি রগরেশা, হাড় আর সরুয়ার ফোঁটা
আমরা সমানভাগে ভাগ করে ফেলবো।
কাঁচা পেয়াজ খেয়ে যারা প্রার্থনায় যায়নি
আমরা তাদের জন্যই অপেক্ষামান।
একটু আগেও আমরা ছিলাম বিদ্বেষে অন্ধ,
ক্ষুধার্ত, পরস্পরকে দোষারোপে হিংস্র,
আমাদের খাবার ছিল না, ছিল না জ্বালানী
মুগ-মুসুর অথবা মাংস। ঘরে আগুন নেই,
অন্ধকার আমাদের প্রায় ডুবিয়ে রেখেছিল।
আর আমাদের শিশুরা এমন যে, শুধু
কালো চোখ মেলে তাকিয়ে থাকে। কারণ
কিছু না জুটলেও আমাদের ধৈর্যধারণ করতে
বলা হয়েছিলো।
সালাত ভাঙলো। আমিন, আমিন-
প্রতিটি মসজিদ থেকে তারা বেড়িয়ে পড়েছেন। যেন কেউ
ওমরের গণকোষাগার থেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন
হিসেব করা দীনার।
আমরা যে পদশব্দের জন্য অপেক্ষা করছিলাম
বুঝিবা তিনি নিকটবর্তী হলেন। পৃথিবীর আহার্য
ঠোঁটে নিয়ে যেমন পাখিরা ঘরে ফেরে, তেমনি।
তার স্থির সুন্দর হাসি
যেন নাজ্জাসীর দরবারে দণ্ডায়মান জাফর
কিম্বা রেহেলের ওপর বিশ্বাসীর কোরান মেলে ধরা।
তিনি চুলার পাশে প্রাত্যহিক সংগ্রহ সাজাতে সাজাতে
আল্লার প্রশংসা করলেন। আর আমরা
চারপাশে গোল হয়ে এগিয়ে এলাম।
আমাদের অদৃষ্টের ভেতর থেকে এখুনি যে শিখা
লক লক করবে, আমরা সে আলোয় পরস্পরকে
চিনে নিতে চাই।
KHOKON