বাংলা কবিতা
অনুচ্চার উচ্চারণ
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
সহসা বিস্ময়ের দাক্ষিণ্যে
প্রভাত যখন আকাশের দরজার কড়া নাড়ে
তখন দেখি আমার হাত
হাত নয়, চোখ-
পাঁচ আঙুলে পাঁচটি চোখের মণি।
বর্ণমালা কোথা থেকে আসল
কোথায় যাবে কখন যাবে
আমি ভাবতে চাই না,
আমি দেখতে চাই
দিন এবং রাত্রির অক্লান্ত পথ হাঁটা।
রাত্রি যখন উৎসবের পাখিদের বিজয়ে
ঘরে আসে
এবং আমি দেখতে পারি না
তখন আমার আঙুল
অন্ধকারের অঙ্গে চোখের মতো ফুটে ওঠে।
তখন জলপ্রপাতের মতো আনন্দিত বেদনা
সিঁড়ি বেয়ে নেমে আসে
হাসতে হাসতে নাচতে নাচতে
কখনও মাটির গভীরে শিকড়ের মতো
কখনও লতাগুলো ফুল ফোটায়
ফুলেরা পাখির ডানায়
উড়ে যায়
ব্যাধের কুটিল চক্রান্তে
ঝরে পড়ে
এবং আমার ঠোঁটে অকটাভিও পাজ:
মিরো একজন সপ্তভুজ মরীচিকা,
প্রথম হাতে তিনি চাঁদের ঢোলকে বোল তোলেন।
দ্বিতীয়টি হাওয়ার বাগানে পাখি ওড়া
তৃতীয় নক্ষত্রের গুটি দিয়ে পাশা খেলে
চতুর্থ সোনার কলম
লিখছে শামুক শতাব্দীর উপকথা
পঞ্চম ছবি আঁকে
সাগরের হৃদয়ে সবুজের দ্বীপপুঞ্জ
আরেকটি রাত্রির জোয়ারে তড়িৎ শিখা
সৃষ্টি করে অশ্রুত কবিতার নারী
এবং সবশেষে আবার নূতন করে শুরু।
আঙুলের চোখের মণি
বর্ণমালার শস্য বীজ,
দৃষ্টি মৃত্তিকায় বীজ বোনে
সরল বাঁকাচোরা
অথবা বৃত্তের আবর্তন-
সবকিছু জড়িয়ে আনন্দিত বিস্ময়
ধরিত্রীর প্রতিটি প্রারম্ভের কণ্ঠলগ্ন
অনুচ্চার উচ্চারণ।
আমি ভাবতে চাই না
দেখতে চাই
আমি তখন ভাবনাহীন দ্যাখার জন্য তৈরি।
KHOKON