বাংলা কবিতা
কবি
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
চিত্রকরে চিত্র করে,করে তুলি তুলি।
কবিসহ তাহার তুলনা, কিসে তুলি?
চিত্রকর দেখে যত, বাহ্য অবয়ব
তুলিতে তুলিয়া রঙ্গ, লেখে সেই সব
ফলে সে বিচিত্র চিত্র, চিত্র অপরূপ।
কিন্তু তাহে নাহি দেখি, প্রকৃতির রূপ॥
চারু বিশ্ব করি দৃশ্য, চিত্রকর কবি।
স্বভাবের পটে লেখে, স্বভাবের ছবি॥
কিবা দৃশ্য কি অদৃশ্য, সকলি প্রকট।
আলিখিত কিছু নাই, কবির নিকট॥
ভাব, চিন্তা, প্রেম, রস, আদি বহুতর।
সমুদয় চিত্রকরে, কবি চিত্রকর॥
পটুয়ার চিত্র ক্রমে, রূপান্তর হয়।
কবি-চিত্র কি বা চিত্র, বিনাশের নয়॥
পটুয়ায় লেখে কত, হাত, মুখ,পদ॥
কবি চিত্রকর লেখে, শুধু মাত্র পদ।।
পদে পদে সেই পদে, কত হাত মুখ।
বিলোকনে বিয়োগির, দূর হয় দুখ॥
কবির বর্ণনে দেখি, ঈশ্বরীয় লীলা।
ভাবনীরে স্নান করি দ্রব হয় শিলা।
তুল্যরূপে দৃষ্ট হয়, ধন আর বন।
ভাসরসে মুগ্ধ করে, ভাবুকের মন।।
রসিক জনের আর, নাহি থাকে ক্ষুধা।
প্রতি পদে বর্ণে বর্ণে, কর্ণে যায় সুধা।।
জগতের মনোহর, ধন্য ভাই কবি।
ইচ্ছা হয় হৃদিপটে, লিখি তোর ছবি।।
KHOKON