বাংলা কবিতা
অযোনিসম্ভূত
অসীম সাহা
তোমার জন্ম কি কোনো মাতৃগর্ভে?
তা না হলে তোমার লাস্যময় মুখের আড়ালে
যে-জিঘাংসার আগুন লিক্লিক্ করছে
তাকে তুমি সংযত করতে পারো না কেন?
তুমি অনায়াসে নারকেলপাতার মতো কম্পমান
বুকের পাঁজরে পাথরের ভারী স্তম্ভটি
চেপে ধরে নিশ্বাস বন্ধ করে মারতে চাও
কীর্তিমান দেবদূতকে, পীন তরঙ্গযোনির
ফেনিল উচ্ছ্বাসের ভেতরে কাগজের নৌকোর মতো
ভাসিয়ে দিতে চাও ছিন্ন-মস্তক।
এই কি তবে মাতৃগর্ভে জন্ম-না নেয়া সন্তানের কলঙ্কিত
হাতের স্পর্শকে শনাক্ত করার জন্যে যথেষ্ট নয়?
তুমি যদি মাতৃগর্ভে জন্ম নিয়ে থাকো,
তা হলে তুমি পর্বতের সানুদেশে বয়ে যাওয়া
চঞ্চল ঝর্নার পথকে অবরুদ্ধ করতে চাও কেন?
তুমি ফুলের বাগানে বর্ণিল প্রজাপতির
উড়ন্ত ডানার মুগ্ধ অনুরাগকে
মুহূর্তের কামনায় স্তব্ধ করে দিতে চাও কেন?
তুমি কি সেই নির্মম কাঠুরিয়া, যে নিজ হাতে
প্রতিদিন বৃক্ষের বদলে একটি কম্পিত দেহকে
টুকরো-টুকরো করে কেটে ভাসিয়ে দিতে চায় সাগরের জলে;
আর স্বদেশের প্রতিটি বৃক্ষের মধ্যে
লক্ষ্য পূরণের আকাঙ্ক্ষাকে একটু-একটু করে
আশবাবপত্রের মতো সাজিয়ে রাখতে চায়,
যতোক্ষণ না গোধূলির শেষ আলোতে
নিজের অস্তিত্বের দীর্ঘ প্রতিবিম্বের ভেতর
নিজের ছায়াকেই সে নির্ভার মনে করতে পারে!
KHOKON