বাংলা কবিতা
আইবুড়ো কালো মেয়ে
যতীন্দ্রমোহন বাগচী
সন্ধ্যা-আকাশ নীরবে তখন আঁধার আসিছে ছেয়ে;
দাওয়ার উপরে ছায়ার মতন বসে আছে কালো মেয়ে। বিরল বসতি ছোট গৃহখানি, গোটা দুই কোঠা-ঘর;
অদূরে তাহারি বহিছে 'তুফানী', সম্মুখে বালুচর।
পল্লীর গৃহ-শান্ত রজনী, সাঙ্গ যা-কিছু কাজ,
ডাকিল জননী-উঠে আয় ননী, চুল বাঁধবিনে আজ?
চোরের মতন মেয়ে উঠে এসে বসিল মায়ের ডাকে;-
কথা যাহা কিছু-চিরুনি ও কেশে, দোঁহে চুপ করে থাকে।
বেড়ে উঠে রাত-দ্বিতীয় প্রহর চৌকিদারের সাড়া;
গরিবের বাড়ি-বিধবার ঘর-দিয়ে যায় কড়া-নাড়া;
শেয়ালের ডাক মিলাইয়া আসে ঝাউ-ভাঙা বালুচরে
দুইটি শয্যা পড়ে পাশা-পাশি নিশীথ-নীরব ঘরে।
জানালার পাশে সন্ সন্ করি সাড়া দেয় শালবনী,
মা শুধায় শেষে-যেন সে গুমরি-ঘুম এল নাকি ননী?
উত্তর আশে চাপা নিঃশ্বাসে কণ্ঠ যে আসে ছেয়ে-
চেয়ে রহে তাই অন্ধ আকাশে-আইবুড়ো কালো মেয়ে।
থম্ থম্ করে গভীর রাত্রি প্রদীপ-নেবানো ঘরে,
আঁধার পথের যুগল-যাত্রী তুফানীর বালুচরে।
একের যাত্রা শেষ হয়ে আসে, আন্যের যবে শুরু,
কালের কপালে কোন্ পরিহাসে কাঁপে দুটি কালো ভুরু!
একে কালো মেয়ে, দরিদ্র তায়, বয়স-সে বিশ-পার; জগতের চোখে কে-বা তারে চায়? নিরুপায় চারিধার!
তবু এ রজনী শেষ হয়ে যাবে-যতই ফাটুক বুক!
কাল প্রাতে কোথা নিস্তার পাবে? দেখাতে হবে না মুখ।
KHOKON