KHOKON

_

Books

Poet

বইয়ের ধারণা এবং এর বিবর্তনের ইতিহাস মানব সভ্যতার জ্ঞান সংরক্ষণের এক বিস্ময়কর যাত্রা। নিচে বইয়ের ইতিহাসের প্রধান পর্যায়গুলো বাংলা ভাষায় সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো: ১. প্রাচীন যুগ: লিখন পদ্ধতির সূচনা বইয়ের আধুনিক রূপ পাওয়ার অনেক আগে মানুষ বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদানে তথ্য লিখে রাখত। মাটির ফলক (Clay Tablets): প্রায় ৫,০০০ বছর আগে মেসোপটেমীয় (বর্তমান ইরাক) সুমেরীয়রা কীলকাকার লিপি বা কিউনিফর্ম (Cuneiform) পদ্ধতিতে নরম কাদার ওপর লিখত এবং পরে তা রোদে পুড়িয়ে স্থায়ী করত। প্যাপাইরাস (Papyrus): প্রাচীন মিশরে নীল নদের তীরে জন্মানো প্যাপাইরাস নামক ঘাস থেকে এক ধরণের কাগজ তৈরি করা হতো। এই লম্বা কাগজগুলোকে পেঁচিয়ে 'স্ক্রোল' (Scroll) হিসেবে রাখা হতো। ২. পার্চমেন্ট এবং কোডেক্স (Codex) পার্চমেন্ট (Parchment): প্যাপাইরাস ভঙ্গুর হওয়ায় পরে পশুর চামড়া বিশেষ প্রক্রিয়ায় তৈরি করে 'পার্চমেন্ট' ব্যবহার শুরু হয়। এটি অনেক বেশি টেকসই ছিল। কোডেক্স: দ্বিতীয় থেকে চতুর্থ শতাব্দীর মধ্যে মানুষ স্ক্রোলের বদলে একের পর এক পাতা সাজিয়ে বাঁধানোর পদ্ধতি আবিষ্কার করে, যা 'কোডেক্স' নামে পরিচিত। এটিই মূলত আধুনিক বইয়ের আদি রূপ। ৩. কাগজ এবং মুদ্রণ যন্ত্রের বিপ্লব কাগজের আবিষ্কার: ১০৫ খ্রিস্টাব্দের দিকে চীনে প্রথম কাগজ আবিষ্কৃত হয়। ধীরে ধীরে এই প্রযুক্তি মধ্যপ্রাচ্য হয়ে ইউরোপে পৌঁছায়। গুটেনবার্গের ছাপাখানা: ১৪৪০-এর দশকে জার্মানিতে জোহানেস গুটেনবার্গ (Johannes Gutenberg) চলমান টাইপ বা 'মুভেবল টাইপ' (Movable Type) মুদ্রণ যন্ত্র আবিষ্কার করেন। এটি বইয়ের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিপ্লব। এর ফলে বই সাধারণ মানুষের নাগালে চলে আসে। বইয়ের ধারণা এবং এর বিবর্তনের ইতিহাস (উৎস: উইকিপিডিয়া)

আরও পড়ুন