বাংলা কবিতা
ঋণখেলাপীর মনস্তাপ
রফিক আজাদ
আমিও খেলাপী এক, প্রকৃতই ঋণের খেলাপী;
কোনো অর্থপ্রতিষ্ঠানে নয় - খেলাপ করেছি ঋণ
মাটি ও মায়ের কাছে, ছোট্ট প্রজাপতিটির কাছে;
আমার রয়েছে ঋণ বহু নারী ও শিশুর কাছে,
অগণ্য অর্থের অংক বাঙলার নদীগুলো পায়,
গাছপালাদের কাছে চিরদিন মাথা নত ক'রে
রয়েছি জন্মের ক্ষণ থেকে : - দিয়ে নিশ্বাসের বায়
গাছপালারাই বাঁচিয়ে রেখেছে এই খেলাপীরে ।
এই ছোট্ট জীবনে আমার পুরুষ-রমণী যতো
এসেছে, তাদের কাছে বহুতর ঋণ রয়ে গেছে ;
সামা্ন্য বিষের জন্যে কতো-কতো জানা ও অজানা
মানুষের দ্বারে-দ্বারে ধর্না দিয়েছি তার-ও কোনো
শুমার তো নেই । - আমি তো সওদাহীন, চিরদিন
অপরের ঘাটে-ঘাটে ভিড়িয়েছি আমার নৌকোটি ।
ভাওয়াইয়া-ভাটিয়ালি গানে রয়েছে যে মূল সুর
সেই সুরে আমি মিলিয়েছি আমার অক্ষম কন্ঠ-
লালন, হাসন রাজা, রবীন্দ্রনাথের গানে-গানে
আমিও দুলেছি খুব একান্তই নিভৃতে-নীরবে;
খেলাপী ঋণের বায়ু বয়ে যায় নিঃশ্বাসে-প্রশ্বাসে,
ঋণের খেলাপ ক'রে মনস্তাপে জর্জরিত আজ,
ক্ষমাপ্রার্থী আমি - ক্ষমা চাই ঋণদাতাদের কাছে ।
(কাব্যগ্রন্থঃ বিরিশিরি পর্ব । প্রকাশ কালঃ জানুয়ারী ১৯৯৯। প্রকাশকঃ অনন্যা)
KHOKON