আল মাহমুদের পুরো নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ। তাকে বিংশ শতাব্দীর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই বর্তমান বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মীর আবদুর রব এবং মা রওশন আরা মীর। কবি আল মাহমুদের কবিতায় আঞ্চলিক ভাষার নানাবিধ প্রয়োগ পরিলক্ষিত হয়। ৫০-এর দশকে তিনি ভাষা আন্দোলন, জাতীয়তাবাদ ও পশ্চিম পাকিস্তানের সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কবিতা লেখার জন্য যথেষ্ট সমাদৃত হয়েছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৬৩ সালে তাঁর বই 'লোক লোকান্তর' প্রকাশিত হলে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। পরবর্তীতে কালের কলস (১৯৬৬), সোনালী কাবিন (১৯৭৩), মায়াবী পর্দা দুলে উঠো (১৯৭৬) ইত্যাদি কবিতার বই তাকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে যায়। কবিতা লেখার পাশাপাশি তিনি ছোট গল্প, উপন্যাস ও প্রবন্ধও লিখেছেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ভারতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত তৈরিতে ভূমিকা রাখেন। যুদ্ধপরবর্তী স্বাধীন বাংলাদেশে তিনি দৈনিক গণকন্ঠ পত্রিকার সহকারী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেসময় তৎকালীন আওয়ামীলীগের সরকারের বিপক্ষে সমালোচনামূলক লেখালেখির জন্য তাকে এক বছরের জন্য কারাবরণ করতে হয়। পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালে আওয়ামীলীগের কর্ণধার ও বাংলাদেশের জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানই আবার তাকে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করেন। সুদীর্ঘ ১৮ বছর দায়িত্ব পালন শেষে ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পরিচালক হিসেবে কবি আল মাহমুদ অবসর গ্রহণ করেন। বাংলা সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি একুশে পদক (১৯৮৬) ও বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৮) সহ একাধিক পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ সালে ৮২ বছর বয়সে বার্ধক্যজনিত কারণে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ক্ষণজন্মা এই কবি মৃত্যুবরণ করেন। পরবর্তীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাকে সমাধিস্থ করা হয়। (উৎস: উইকিপিডিয়া)